নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭ এ.এম
আইসিসির সদরদপ্তর
সহজ কথায় বললে, আইসিসি যেহেতু ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ক্রিকেটের বৈশ্বিক বা বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করে। গ্যালারির টিকিট বিক্রি কিংবা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ওপর তাদের খুব একটা নির্ভর করতে হয় না। তাদের আয়ের পথগুলো বেশ গোছানো ও বৈশ্বিক।
আইসিসি নিজেদের ইভেন্টগুলোর টেলিভিশন ও ডিজিটাল স্বত্ব বিশ্বব্যাপী এবং একাধিক বছরের জন্য বিক্রি করে। বর্তমান চক্রের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা)। এখানে ভারত মূল চালিকাশক্তি। ভারতের সম্প্রচারকেরা বেশি দাম দেয়, কারণ আইসিসির ইভেন্টগুলো দেশব্যাপী দর্শক আকর্ষণ করে।
২. পৃষ্ঠপোষকতা ও অংশীদারত্ব
বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে বিনিয়োগ করে। টুর্নামেন্টে যে সময় দর্শক সবচেয়ে বেশি থাকে, সে সময়ে বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি অর্থ দেয়। আর এটা সবারই জানা, আইসিসির ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মতো আর কোনো ম্যাচই এত বেশি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে না।
বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও সিরিজের আয়োজক বোর্ডগুলো আইসিসিকে ফি দেয় এবং টিকিট বিক্রির লাভ ভাগ করে নেয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সম্প্রচার আয়ের তুলনায় এই আয় অনেক কম।
মার্চেন্ডাইজিং, ডেটা ও বাণিজ্যিক লাইসেন্সিং আরও কিছু অতিরিক্ত আয় যোগ করে আইসিসির তহবিলে।

দুবাইয়ে আইসিসির সদরদপ্তর
রয়টার্স
সব মিলিয়ে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসির সম্ভাব্য নিট আয় দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের (প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা) কাছাকাছি।
আয়ের ভাগ–বাঁটোয়ারা: কার পকেটে কত:
আইসিসি তার আয়ের টাকা ভাগ করার জন্য একটি বিশেষ সূত্র ব্যবহার করে। মূলত চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই ভাগ নির্ধারিত হয়:
১. বাণিজ্যিক অবদান
২. ক্রিকেটের ইতিহাস
৩. গত ১৬ বছরের মাঠের পারফরম্যান্স
৪. পূর্ণ সদস্যপদের মর্যাদা
এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘বাণিজ্যিক অবদান’কে। আর এই একটি জায়গাতেই ভারত বাকিদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে।
কেন ভারতের আয় সবচেয়ে বেশি
বিশ্ব ক্রিকেটের ৭০-৮০ শতাংশ আয় আসে ভারতের বাজার থেকে। ভারতের ঘরোয়া মিডিয়া স্বত্বই এখন ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। আসলে আইসিসি ভারতকে আলাদা কোনো সুবিধা দেয় না। সম্পূর্ণ গাণিতিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে যেখান থেকে অর্থ আসে, আইসিসি সেদিকেই যায়।
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ঘরোয়া লিগ, টিকিট বিক্রি এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করে। আইসিসির আয়ের ভাগ পাওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই অর্থ পাওয়া না গেলে তারা বিপদে পড়বে না। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের জন্য আইসিসির টাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই বোর্ডগুলো অনেকটাই আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থের ওপর নির্ভরশীল।